ঢাকার শেরাটনে ২৮-২৯ ডিসেম্বর এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট
প্রকাশিত হয়েছে : ২:০৪:১০,অপরাহ্ন ১২ অক্টোবর ২০২৬ | সংবাদটি ২৬ বার পঠিত

প্যারিসে সংবাদ সম্মেলন: অংশ নেবেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এক হাজারের বেশি অনাবাসী বাংলাদেশি ।
তৃতীয় বাঙলা ডেস্ক :
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মেধা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে আগামী ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার শেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’। এ উপলক্ষে রোববার বিকেলে ফ্রান্সের প্যারিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সামিটের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন আয়োজকেরা।
প্যারিসের প্লাস দ্য ক্লিশির ক্যাফে লুনার হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এর কনভেনর মমিনুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনআরবি ওয়ার্ল্ডের প্রতিষ্ঠাতা এনামুল হক এনাম এবং অ্যাডভাইজার কাজী এনায়েত উল্লাহ। সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকেরা আসন্ন সামিটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।
আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এবারের সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এক হাজারের বেশি অনাবাসী বাংলাদেশি অংশ নেবেন। ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরাও এতে অংশ নেবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তাঁদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন খাতের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে মনে করছেন আয়োজকেরা।
আয়োজকরা জানান. আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করলেও এনআরবি ওয়ার্ল্ডের পথচলার শুরু আরও প্রায় এক দশক আগে। মূলত ২০১৪ সালে সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে ‘ওয়ার্ল্ড বিজনেস সামিট’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে এনআরবি ওয়ার্ল্ডের মতো একটি সংগঠন তৈরির ধারণাটি সামনে আসে। একই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এরপর ২০১৭ সালে বাংলাদেশে, ২০১৮ সালে আমেরিকায়, ২০১৯, ২০২০ এবং ২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে সফলভাবে আরও কয়েকটি ওয়ার্ল্ড বিজনেস সামিট আয়োজন করা হয়। পরবর্তীতে দেশের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে প্রবাসী ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং পেশাজীবীদের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরির লক্ষ্যে ঢাকায় আয়োজন করা হয় এনআরবি প্রফেশনাল সামিট। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবাসীদের দেশের উন্নয়নে কার্যকর ও অর্থবহভাবে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আয়োজকেরা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মেধা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগানোই এ সামিটের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলার মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে চায় সংগঠনটি।
এবারের সামিটের প্রতিপাদ্য ‘থিংক বাংলাদেশ’ (Think Bangladesh)। আয়োজকদের মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা শুধু রেমিট্যান্স প্রেরণকারী নন; তাঁরা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যবসায়িক দক্ষতা ও বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাঁদের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সামিটে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বিনিয়োগের সুযোগ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দেশের সঙ্গে প্রবাসীদের কার্যকর অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি প্যানেল আলোচনা, মতবিনিময়, নেটওয়ার্কিং ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির মাধ্যমে প্রবাসী পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকেরা মনে করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা ও অর্জনকে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। এ জন্য প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে আয়োজকেরা সামিটের পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁদের প্রত্যাশা, ঢাকায় অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে তাঁদের অবদান রাখার নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
আয়োজকেরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এ অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, প্রবাসীদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ সামিট সেই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
উল্লেখ্য, এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬ আগামী ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার শেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে।





