প্যারিসে সাউথ এশিয়া রাইটস ইনিশিয়েটিভের আয়োজনে আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:২৬:১০,অপরাহ্ন ০৫ মার্চ ২০২৬ | সংবাদটি ২১৬ বার পঠিত
সাদিকুর রহমান সাদিক : প্যারিস :
প্যারিসে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সাউথ এশিয়া রাইটস ইনিশিয়েটিভের আয়োজনে আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেমিনারে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
রবিবার বিকালে মোট্র হুশের একটি অভিজাত হোটেলের বলরুমে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয় ।
এ সময় ফ্রান্সের মূলধারার সাংবাদিকসহ বাংলা গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।
সংগঠনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন কয়েসের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক হাসান আহমদের পরিচালনায় আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালী বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ড. হাসান মাহমুদ, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ব্যারিস্টার তাপস বাউল, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাইফুজ্জামান শেখর, এস এম রেজাউল করিম, এ,এফ, এম গোলাম জিলানী, ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার, আমিনুল হক পলাশ, খলিলুর রহমান, সুশান্ত দাস গুপ্ত, জাকারিয়া মাহমুদ, এম এ কাশেম, মুজিবুর রহমান, সাত্তার আলী , মনজুর হাসান চৌধুরী সেলিম, মেরী হাওলাদার , সাদিকুর রহমান, সাঈদুর রহমান সাঈদ ও চৌধুরী মারুফ আমিত প্রমুখ।
এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রদান করা হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গণতান্ত্রিক বৈধতা, স্বচ্ছতা ও জন আস্থার বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনটি “প্রহসনমূলক ও সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ” ছিল এবং প্রগতিশীল ও সেকুলার রাজনৈতিক দলগুলোকে কার্যকর অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এতে রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি নিবন্ধিত ভোটার অংশগ্রহণের যোগ্য ছিলেন এবং ভোটগ্রহণ চলে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। তবে নির্বাচন কমিশনের ধাপে ধাপে প্রকাশিত ভোটার উপস্থিতির তথ্য বিশ্লেষণ করে SARI উল্লেখ করেছে, সেখানে “সংখ্যাগত অসঙ্গতি” এবং “অস্বাভাবিক ভোট প্রদানের ধরণ” লক্ষ্য করা গেছে।
সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল ১৪.৯৬ শতাংশ—যা প্রায় ১ কোটি ৯১ লাখ ভোটের সমতুল্য। এতে প্রতি মিনিটে গড়ে প্রায় ৯০ হাজারের বেশি ভোট প্রদানের হিসাব দাঁড়ায়। কিন্তু পরবর্তী মাত্র এক ঘণ্টায় উপস্থিতি হঠাৎ বেড়ে ৩২.৮৮ শতাংশ হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অর্থাৎ সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ ভোট পড়েছে—যা প্রতি মিনিটে গড়ে ৩ লাখ ৮০ হাজারের বেশি ভোট প্রদানের ইঙ্গিত দেয়।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, “আওয়ামী লীগের মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে অন্তর্ভুক্ত না করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো যা গণতন্ত্রের সাথে প্রতারণার শামিল ।
বক্তারা এসময় বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, নির্বিচার গ্রেপ্তার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, এই পরিস্থিতির উন্নয়নে জোরালো ও কার্যকর ভূমিকা পালনের।






