তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্যারিসে জীবনের শেষ একশ ঘণ্টা
প্রকাশিত হয়েছে : ৬:৫৫:০১,অপরাহ্ন ১০ অক্টোবর ২০২৬ | সংবাদটি ২৭ বার পঠিত

এনায়েত হোসেন সোহেল
কিছু বিদায় এত নীরব হয়, যে বিদায়ের মুহূর্তে কেউ বুঝতেই পারে না—সেটিই শেষ দেখা।
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। রবিবার। প্যারিসের স্থানীয় সময় তখন সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিট।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ঢাকা অফিস থেকে ফোন এলো কবি মাযহার সরকারের। ওপাশ থেকে জানালেন—আমাদের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী শিগগিরই প্যারিস আসছেন। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলবেন আমাদের সহকর্মী আকিব জাবেদ।
আমি বললাম, ঠিক আছে।
কিছুক্ষণ পর আকিব জাবেদের বার্তা এলো। পরে কথা হলো তাঁর সঙ্গে। জানালেন, সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী লন্ডন থেকে বৃহস্পতিবার ইউরোস্টারে প্যারিস আসবেন। আমার সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন, সময়মতো যোগাযোগ হবে।
কথাবার্তার একপর্যায়ে তাঁর সফরের প্রাথমিক পরিকল্পনা জানলাম। আকিব আমাকে খালিদী ভাইয়ের ট্রেনের টিকিটের ছবি পাঠিয়ে দিলেন।
তখনও কি জানতাম—এই মানুষটির সঙ্গে আমার যে কয়েকটি দিন আসছে, সেগুলোই হবে তাঁর জীবনের শেষ কয়েকটি দিন?
জানতাম না।
জানলে হয়তো প্রতিটি মুহূর্তকে অন্যভাবে দেখতাম।
প্যারিসে আগমন
২৪ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার।
গার দো নর্দ স্টেশনের ঘড়িতে তখন বিকেল ৫টা ৫৭ মিনিট।
লন্ডন থেকে ইউরোস্টারে প্যারিসে এসে পৌঁছালেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। সঙ্গে তাঁর বোনের মেয়ে জয়িতা।
সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে স্টেশনের বাইরে বের হলেন তিনি।
আগেই সেখানে অপেক্ষা করছিলেন আমার সহকর্মী সাংবাদিক অধ্যাপক অপু আলম , সাংবাদিক আবু তাহের রাজু, সাংবাদিক হাফিজুর রহমান জাবেদ এবং আমি।
ফুল দিয়ে স্বাগত জানালাম তাঁকে।
দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি যেন মুখে খুব একটা ছিল না। কুশল বিনিময়ের পর জানালেন—লা দিফঁসে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত নভোটেল হোটেলে রুম নেওয়া হয়েছে। সেখানেই যেতে হবে।
আমার পরিচিত ট্যাক্সিচালক আবু বক্কর টেক্সি নিয়ে উপস্থিত হলো। আমরা রওনা হলাম লা দিফঁসের উদ্দেশে।
প্যারিসের ব্যস্ত সন্ধ্যা। রাস্তাজুড়ে যানজট। প্রায় ৪৫ মিনিট পর আমরা পৌঁছালাম হোটেলে।
আগে থেকেই বুক করা কক্ষে পৌঁছে বড় একটি স্যুটকেস নামালাম । স্যুটকেসভর্তি বই। সঙ্গে আরও কিছু ব্যক্তিগত জিনিসপত্র।
কিন্তু হোটেলে গিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার বদলে তিনি বললেন—
“চলো, আগে একটু লা দিফঁস ঘুরে দেখি।”
ত্রিশ বছর আগের প্যারিস যেন তাঁর চোখের সামনে আবার জীবন্ত হয়ে উঠল।
বললেন, ছাত্রজীবনে যখন প্যারিসে লেখাপড়া করতেন, তখন এখানকার একটি উঁচু ভবনের চতুর্দশ তলায় থাকতেন। এই লা দিফঁসের প্রতিটি পথ, প্রতিটি ভবন, প্রতিটি বাঁকে তাঁর কত শত স্মৃতি জমে আছে!
আমরা হাঁটতে শুরু করলাম।
এ মাথা থেকে ও মাথা।
একসময় মনে হলো, আমি যেন বর্তমানের একজন মানুষকে নয়, অতীতের কোনো এক তরুণকে অনুসরণ করছি। তিনি কখনো ডানে তাকাচ্ছেন, কখনো বাঁয়ে। কোনো একটি ভবন দেখে থেমে যাচ্ছেন। পুরোনো কোনো স্মৃতি মনে পড়ছে। বলছেন।
চোখেমুখে এক ধরনের শিশুসুলভ আনন্দ।
নস্টালজিয়া মানুষকে বোধহয় এমনই করে দেয়—বয়সের ভার সরিয়ে মানুষকে ফিরিয়ে নেয় তার ফেলে আসা সময়ে।
হাঁটতে হাঁটতে তিনি আমার সম্পর্কে জানতে চাইলেন।
কত বছর হলো প্যারিসে?
কে কে আছেন এখানে?
দেশে থাকতে কোন কোন গণমাধ্যমে কাজ করেছি?
কীভাবে সাংবাদিকতায় এলাম?
আরও কত কথা।
তাঁর কথাবার্তায় কোনো দূরত্ব ছিল না। স্পষ্টবাদী মানুষ। অথচ অল্প সময়ের মধ্যেই এক অদ্ভুত মায়ায় আপন করে নিলেন আমাকে।
বইভর্তি স্যুটকেস
লা দিফঁসের একটি মার্কেটে বসে ফাস্টফুড খেলাম।
এরপর তিনি তাঁর প্যারিস সফরের কারণ ও কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত বললেন।
জানালেন, পরদিন শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে চান। আমি তাঁকে গ্র্যান্ড মসজিদ দ্য প্যারিসের কথা বললাম। তিনি মসজিদের ঠিকানা ও যাতায়াতের বিস্তারিত তথ্য আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে বললেন।
সেদিন রাতেই তাঁকে পাঠিয়ে দিলাম।
কিন্তু রাত তখনও শেষ হয়নি।
মেট্রো ১ ও ৬ ধরে আমরা রওনা হলাম আইফেল টাওয়ারের দিকে।
প্যারিস তখন রাতের আলোয় অন্য এক শহর।
আইফেল টাওয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে আমরা অনেকক্ষণ ঘুরলাম। রাত প্রায় ১১টা ছুঁইছুঁই।
প্রায় এক ঘণ্টা পর টুকাডেরো মেট্রো স্টেশনে ফিরে এলাম।
আমি বললাম, “রাত অনেক হয়েছে। আপনাদের হোটেলে দিয়ে যাই।”
তিনি রাজি হলেন না।
বললেন,
“আমরা যেতে পারব। তুমি যাও।”
সেখানেই বিদায় নিলাম।
হোটেলে পৌঁছে তিনি আমাকে বার্তা পাঠালেন—তাঁরা হোটেলে পৌঁছেছেন।
সেদিনের সেই ছোট্ট বার্তাটিও যে একদিন এত বড় স্মৃতি হয়ে উঠবে, তখন কে জানত!
প্যারিসে কয়েকটি দিন
শুক্রবার রাতে কথা হলো।
জানালেন, সবকিছু ঠিকঠাক চলছে।
শনিবার দুপুরে প্যারিসের একটি রেস্তোরাঁয় সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে থাকবেন তাঁর পুরোনো বন্ধুরা।
মূলত এই অনুষ্ঠানেই যোগ দিতে তাঁর প্যারিসে আসা।
আর যে বিশাল স্যুটকেসটি তিনি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন—সেটি কেবল তাঁর নিজের জিনিসপত্রের জন্য নয়।
স্যুটকেসভর্তি বই।
‘রক্ত রেখায় বাংলাদেশ’—তিন খণ্ডের।
বাংলাদেশ থেকে নিয়ে এসেছেন প্যারিসের সাংবাদিক বন্ধুদের জন্য।
একজন সম্পাদক তাঁর পাঠকদের জন্য শুধু সংবাদই বহন করেননি; তিনি বহন করে এনেছিলেন বই, স্মৃতি আর বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর এক গভীর সম্পর্ক।
শনিবার রাতেও কথা হলো।
বললেন, অনুষ্ঠানটি খুব ভালো হয়েছে। দীর্ঘদিন পর অনেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে। সবাইকে দেখে ভালো লেগেছে। সময়টা খুব উপভোগ করেছেন।

কথার ফাঁকে জানালেন, রোববার দুপুরে সুইজারল্যান্ড থেকে লেখক ও সাংবাদিক অমি পিয়াল দেখা করতে আসবেন। তাই বিকেলে আমার সঙ্গে আবার দেখা হবে।
আর রাতে ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মোহাম্মদ তালহার বাসায় দাওয়াত।
রাষ্ট্রদূত নিজেই তাঁকে নিতে আসবেন।
শেষ বিকেলের দীর্ঘ আলাপ
রোববার।
বিকেল ৪টার দিকে ফোন করলেন খালিদী ভাই।
“হোটেলে আছি। চলে আসো।”
আমি বিকেল ৫টার দিকে হোটেলের লবিতে পৌঁছালাম।
সামনাসামনি বসে আবার দীর্ঘ আলাপ।
কফির কাপের ধোঁয়া উঠছিল।
আর কথার পর কথা।
বাংলাদেশের সামগ্রিক কল্যাণে প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়ে কথা বললেন। বললেন, দেশের অর্থনীতি ও সমাজে প্রবাসীদের অবদান অনেক, কিন্তু কোনো সরকারই প্রবাসীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারেনি।
কথায় ক্ষোভ ছিল।
কিন্তু সেই ক্ষোভের ভেতরেও ছিল দেশের জন্য গভীর মমতা।
দেশের রাজনীতি, সংবাদপত্র, সাংবাদিকতার বর্তমান অবস্থা—কত বিষয় নিয়ে কথা হলো!
বললেন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রবাসীদের নিয়ে ভালো কাজ করছে। মাযহার সরকার বিভিন্ন দেশে প্রতিনিধি নিয়োগ ও সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সফলতা দেখাচ্ছেন।
আমি শুনছিলাম।
একজন সম্পাদক কথা বলছিলেন।
আর আমি হয়তো অজান্তেই শুনছিলাম একজন মানুষের জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সারাংশ।
রাত তখন সাড়ে ৮টা।
ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মোহাম্মদ তালহা এলেন তাঁকে নিতে।
খালিদী ভাই আমাকে রাষ্ট্রদূত সাহেবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন—
“সোহেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফ্রান্স করেসপন্ডেন্ট।”
রাত ৯টার দিকে রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে উঠে তিনি চলে গেলেন।
আমি দাঁড়িয়ে রইলাম।
বিদায়ের সময় বললেন—
“সোহেল, দেশে গেলে অফিসে এসো।”
তারপর একটু থেমে বললেন—
“প্যারিসের সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি জড়িত। আবার আসব।”
আরও বললেন—
“নিয়মিত নিউজ পাঠাবে। কোনো দরকার হলে ফোন করো।”
কত স্বাভাবিক ছিল কথাগুলো!
কত সাধারণ!
অথচ এখন মনে হয়—সেই কথাগুলোর প্রতিটি শব্দের ভেতর যেন লুকিয়ে ছিল এক অনিবার্য বিদায়ের ছায়া।
শেষ ফোন
সোমবার।
বেলা তিনটার দিকে পরপর দুবার ফোন করলাম।
তাঁদের গার দো নর্দ থেকে লন্ডনগামী ইউরোস্টারের সময় সন্ধ্যা ৭টা ২৪ মিনিট।
আমি জানতাম, প্যারিসের বিকেলের রাস্তায় যানজট থাকে। তাই একটু আগে বের হওয়া দরকার।
কিন্তু ফোন ধরলেন না।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁর ফোন এলো।
জানালেন, রাস্তায় প্রচণ্ড যানজটে আটকা পড়েছেন।
আমি বললাম—
“তাহলে তো ট্রেন মিস হয়ে যাবে। স্টেশনে যাওয়ার পর আবার ইমিগ্রেশন আছে। এত অল্প সময়ে ট্রেন ধরা সম্ভব হবে না। পরে আরও দুটি ট্রেন আছে। এখন যেতে না পারলে সেগুলোতে যেতে পারবেন।”
তিনি বললেন—
“দেখি কী হয়।”
এটাই ছিল তাঁর সঙ্গে আমার শেষ ফোনালাপ।
তারপর রাত ১২টা ২৭ মিনিটে তাঁর একটি বার্তা এলো—
“Arrived in London. Thank you for everything.”
আমি জানতাম না, এই বার্তাটিই আমাদের সম্পর্কের শেষ লিখিত বাক্য হয়ে থাকবে।
শেষ একশ ঘণ্টা
এরপর মাত্র কয়েকটি দিন।
একজন জলজ্যান্ত মানুষ—যাঁর সঙ্গে প্যারিসের রাস্তায় হাঁটলাম, যাঁর সঙ্গে কফি খেলাম, দেশের রাজনীতি নিয়ে কথা বললাম, সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করলাম, আইফেল টাওয়ারের রাত দেখলাম, লা দিফঁসের পুরোনো স্মৃতি শুনলাম—
তিনি আর নেই।
এত দ্রুত?
এত অপ্রস্তুতভাবে?
এত নিঃশব্দে?
লন্ডনে ফিরে যাওয়ার দুইদিন পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সেইন্ট বার্থোলোমিউজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে ২ অক্টোবর স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মানুষ আসলে কখন শেষবারের মতো কারও সঙ্গে দেখা করে, তা কেউ জানে না।
শেষবারের মতো করমর্দন কখন হয়, জানা যায় না।
শেষবারের মতো ফোনে কথা বলার সময়ও বোঝা যায় না—এটাই শেষ।
শেষবারের মতো বলা “আবার আসব” যে আর কোনোদিন সত্যি হবে না, সেটিও মানুষ জানে না।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্যারিস সফরের এই একশ ঘণ্টার স্মৃতিগুলো তাই আমার কাছে এখন শুধু কয়েকটি দিনের ঘটনা নয়।
এ যেন জীবনের এক নির্মম পাঠ।
একজন মানুষ এসেছিলেন বাংলাদেশ থেকে লন্ডন। লন্ডন থেকে প্যারিসে।
স্মৃতি খুঁজতে।
বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে।
বই উপহার দিতে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে।
পুরোনো প্যারিসকে আরেকবার ছুঁয়ে দেখতে।
আর ফিরে গিয়েছিলেন লন্ডনে।
তারপর…
আর কোনোদিন ফেরেননি।
যে মানুষটি সংবাদকে বদলে দিয়েছিলেন
বাংলাদেশের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার ইতিহাসে, বিশেষ করে অনলাইন সাংবাদিকতার বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর অবদান অনস্বীকার্য।
তিনি শুধু একটি সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করেননি; বাংলাদেশের সংবাদ পাঠের অভ্যাসে পরিবর্তন এনেছিলেন।
ডিজিটাল সাংবাদিকতাকে তিনি একটি শক্তিশালী বাস্তবতায় পরিণত করেছিলেন।
তাঁর কাজের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য সাংবাদিকের পেশাগত পথচলা, অসংখ্য পাঠকের প্রতিদিনের সংবাদজীবন এবং বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
মানুষ চলে যায়।
কিন্তু কিছু মানুষ তাঁদের কাজের ভেতর থেকে যান।
কিছু মানুষ তাঁদের প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে যান।
কিছু মানুষ তাঁদের সহকর্মীদের স্মৃতিতে থেকে যান।
আর কিছু মানুষ থেকে যান ইতিহাসের পাতায়।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী সেই মানুষদের একজন।
শেষ কথাটি
প্যারিসের সেই রাতগুলো এখনো আছে।
লা দিফঁসের আলো জ্বলে।
গার দো নর্দে ট্রেন আসে, ট্রেন যায়।
মেট্রো ১ ও ৬ ছুটে চলে তার নিজস্ব গতিতে।
আইফেল টাওয়ার রাতের আকাশে আলো ছড়ায়।
টুকাডেরোর সেই পথও আছে।
শুধু নেই একজন মানুষ।
যিনি বলেছিলেন—
“প্যারিসের সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি জড়িত। আবার আসব।”
জীবন কখনো কখনো মানুষের সঙ্গে এমন নির্মম রসিকতা করে।
তিনি আর আসবেন না।
কিন্তু তাঁর স্মৃতির প্যারিস—আমাদের ভেতরে থেকে যাবে।
আর আমার কাছে থেকে যাবে সেই শেষ একশ ঘণ্টা।
একজন মানুষের জীবনের শেষ একশ ঘণ্টা।
যে একশ ঘণ্টার কোনো মুহূর্তেই আমরা বুঝিনি—
আমরা আসলে একজন কিংবদন্তির সঙ্গে তাঁর জীবনের শেষ বিদায়গুলোই বিনিময় করছি।
আল্লাহ তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।
আমিন।





